সোমবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের কোনো অপ্রত্যাশিত মুভমেন্ট দেখা যায়নি, যদিও অনেক ট্রেডার এই ধরনের প্রতিক্রিয়ারই প্রত্যাশা করছিলেন। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাজধানী করাকাসে সামরিক হামলার নির্দেশ দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশটির সামরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা অচল করে দেওয়া। এই হামলার মাধ্যমে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, যেখানে তাকে "বিশ্বের সবচেয়ে মানবিক আদালতের" সম্মুখীন করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এখানে আমরা এটি যাচাই করব না যে ট্রাম্পের কি এই ধরনের সামরিক আদেশ দেওয়ার অধিকার রয়েছে, কিংবা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ বা অন্যান্য সংস্থা এ ব্যাপারে কী ভাবছে। মূলত, ট্রাম্প বহু আগেই বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, "আইন তো আইনই... তবে কখনও কখনও এর ব্যতিক্রম হয়।"
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো ঘটা বাকি রয়েছে। পুরো ২০২৫ সাল জুড়েই আমরা দেখেছি—ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালাই মার্কিন ডলারের দরপতনের মূল কারণ। তাই আমরা বহু আগেই সতর্ক করেছিলাম যে, ২০২৬ সাল ২০২৫ সালের তুলনায় ভালো যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়। বাস্তবতা হলো, ২০২৬ সাল ঠিকমতো শুরু হওয়ার আগেই ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন, যার মাধ্যমে আরেকটি দেশের নেতা গ্রেফতার হয়েছেন; এমনকি তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে গত বছর গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য কোনো রসিকতা ছিল না।
সোমবার সকালে অনেক বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন যে, মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় মার্কেটে "ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতা" শুরু হবে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারে চাহিদা বাড়বে, ফলে ডলারের দর বৃদ্ধির পাবে। তবে আমরা মনে করি, ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন ডলারকে তখনই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ব্যবহার হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজে কোনো ভূরাজনৈতিক সংঘাতে জড়িত থাকে না। এখন পুরো বিশ্ব জানে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশে ক্ষমতা পরিবর্তন করতে চায় (রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অথবা চীন ছাড়া), তবে তারা সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদ কিংবা কর্মকর্তাকে ধরে নিয়ে আসতে পারবে। সেক্ষত্রে, ২০২৫ সালের বাণিজ্যযুদ্ধ ভবিষ্যতের দৃষ্টিতে হয়তো অনেকটাই "শিশুতোষ খেলা" মনে হতে পারে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এমন একটি মুদ্রার প্রতি ট্রেডারদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত যার রাষ্ট্রপ্রধান এখন আর রক্ষণশীল নীতিমালা নয়, বরং প্রকাশ্যে স্বৈরতন্ত্রের আদর্শ অনুসরণ করছেন? আমাদের মতে, বছরের শুরুতেই মার্কিন ডলার আরও একটি গুরুতর ধাক্কা খেয়েছে। হ্যাঁ, সোমবার ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে দিন শেষে তা পুরোপুরি হারিয়ে যায়—কারণ ISM ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচক প্রকাশিত হয়, এটি এমন একটি সূচক যা ভেনেজুয়েলার ঘটনাগুলোর চেয়েও ডলারের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে আমাদের পূর্বাভাস এবং প্রত্যাশা অপরিবর্তিত রয়েছে—২০২৬ সালেও মার্কিন ডলারের দরপতন অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে EUR/USD পেয়ারের মূল্য দৈনিক টাইমফ্রেমে সেনকৌ স্প্যান বি লাইনে এসে পৌঁছেছে এবং এখনও 1.1400–1.1830 রেঞ্জের মধ্যেই সাইডওয়েজ চ্যানেলে অবস্থান করছে। আমরা এখনো অপেক্ষা করছি, মার্কেটে কখন এই "টানাটানি" পরিস্থিতি থেকে শেষ হয়ে এই পেয়ারের মূল্য উক্ত চ্যানেলের উপরের সীমা অতিক্রম করে অবশেষে একটি চূড়ান্ত প্রবণতা শুরু হবে।

৬ জানুয়ারি পর্যন্ত গত পাঁচ দিনের ট্রেডিংয়ের গড় ভোলাটিলিটি অনুযায়ী গড়ে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের মাত্র 46 পয়েন্ট মুভমেন্ট পরিলক্ষুত হয়েছে, যা "নিম্ন" ভোলাটিলিটি হিসেবে বিবেচিত হয়। আমাদের প্রত্যাশা, মঙ্গলবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1670 এবং 1.1762 লেভেলের মধ্যে মুভমেন্ট প্রদর্শন করবে।
হায়ার লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেল ঊর্ধ্বমুখী হলেও, বাস্তবে দৈনিক টাইমফ্রেমে মার্কেটে এখনো ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হচ্ছে। CCI সূচক গত ডিসেম্বরের শুরুতে ওভারবট জোনে প্রবেশ করেছিল, আর ইতোমধ্যে আমরা এই পেয়ারের মূল্যের কিছুটা পুলব্যাক দেখতে পেয়েছি। গত সপ্তাহে একটি বুলিশ ডাইভারজেন্সও গঠিত হয়েছিল, যা আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিকটতম সাপোর্ট লেভেল:
S1 – 1.1658S2 – 1.1597S3 – 1.1536
নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল:
R1 – 1.1719R2 – 1.1780R3 – 1.1841
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
বর্তমানে EUR/USD পেয়ারের মূল্য মুভিং এভারেজ লাইনের নিচে কনসোলিডেট করেছে, তবে হায়ার টাইমফ্রেমগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনো বহাল রয়েছে। দৈনিক টাইমফ্রেমে টানা ছয় মাস ধরে এই পেয়ারের মূল্যের ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট অব্যাহত আছে । বৈশ্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপট এখনো মার্কেটের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ডলারের জন্য এখনও নেতিবাচক রয়ে গেছে। বিগত ছয় মাসে মার্কিন ডলারের মূল্য মাঝে মাঝে দুর্বল বৃদ্ধি দেখিয়েছে, কিন্তু তা শুধুমাত্র সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। দীর্ঘমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য কোনো মৌলিক ভিত্তি এখনো দৃশ্যমান নয়।
বর্তমানে এই পেয়ারের মূল্য যদি মুভিং এভারেজ লাইনের নিচে থাকে, তবে শুধুমাত্র টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে মূল্যের 1.1670 এবং 1.1658-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন বিবেচনায় আনা যেতে পারে। অপরদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য মুভিং এভারেজ লাইনের উপরে থাকে, তাহলে লং পজিশন এখনো প্রাসঙ্গিক থেকে যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1830-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে — যা দৈনিক টাইমফ্রেমে দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জের উপরের সীমা এবং কার্যত এই পেয়ারের মূল্য ইতোমধ্যে একবার এখানে পৌঁছেছে। এখন এই পেয়ারের মূল্যের এই দীর্ঘস্থায়ী ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বের হওয়ার সময় এসেছে।
চিত্রের ব্যাখা