সোমবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের উপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের জন্য পাঠানোর ঘটনায় কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। সামগ্রিকভাবে আমরা মনে করি, এই নির্লিপ্ত আচরণ যৌক্তিক, কারণ প্রকৃতপক্ষে এখানে তেমন কোনো ভূরাজনৈতিক সংঘাত সংঘটিত হয়নি। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান মাত্র পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল এবং খুব দ্রুত তা শেষ হয়ে যায়। মাদুরোর বিচার শীঘ্রই শুরু হবে, তবে এটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট যে কারাকাসে ওয়াশিংটনের অনুগত সরকার স্থাপিত হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ এখন থেকে ভেনেজুয়েলা 'কীভাবে' চলবে, তা যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করবে।
অতএব, 2026 সাল বেশ 'জোরালো'ভাবে (নেতিবাচক অর্থে) শুরু হয়েছে, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, 2025 কেবল প্রারম্ভিক প্রস্তুতি ছিল। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘটনাগুলো এখনো বাকি। হোয়াইট হাউসের বর্তমান প্রেসেডেন্ট এবার ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কিউবার 'অপরাধমূলক শাসনব্যবস্থা' থেকে জনগণকে 'উদ্ধার' করবেন এবং সেইসঙ্গে তিনি গ্রিনল্যান্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান। তবে কিউবা ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় ক্ষেত্রেই তার বিতর্কিত পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে, কারণ এটি কোনো গোপন বিষয় নয় যে, কিউবার রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অঞ্চল—অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ।
যদিও এ ব্যাপারে ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে কিউবায় কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা নেই, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিশ্চয়ই চুপচাপ বসে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে গ্রিনল্যান্ডের দিকে এগোতে দেখবে না। সে হিসেবে, কিউবায় কোনো অভ্যুত্থান কিংবা ডেনিশ দ্বীপ দখলের মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। এখানে এটা বোঝা প্রয়োজন যে—ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে যেতে চান না। 2025 সালের পুরোটা সময়জুড়ে তিনি নিজেকে বিশ্বের প্রধান শান্তিদূত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কার পর্যন্ত পাওয়ার চেষ্টা করেন—যদিও তিনি সেটি পাননি। সুতরাং সীমান্তবর্তী একটি দেশে দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে লক্ষ্য পূরণ করা এক বিষয়, কিন্তু রাশিয়ার (কিউবার বিষয়ে) অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে) সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়া ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই মনে হয়।
সম্ভবত, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের সামরিক অভিযান পুরো বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে—নিজের লক্ষ্য পূরণে তিনি কতদূর যেতে পারেন। এ ঘটনার পর তার বিরোধীরা যেকোনো আলোচনা কিংবা কূটনৈতিক সমঝোতায় আরও নমনীয় অবস্থান নেবে বলে ধরে নেওয়া যায়। ট্রাম্প এখন গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে শান্তিপূর্ণ পথের দিকেই এগোতে চাইছেন—এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই অনেক বাণিজ্য আলোচনায় দেখিয়েছে, তারা দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চুক্তির কঠিন শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে। তবে এটি উচ্চপর্যায়ের কূটনীতি—এবং বাস্তব চিত্রের কোনো দিকই আমাদের সামনে নেই। তাই আমাদের কিছুটা সীমিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই পূর্বাভাস দিতে হয়।
এবার ফিরে আসা যাক ব্রিটিশ পাউন্ড এবং এটির মূল্যের ভবিষ্যৎ প্রবণতার দিকে। এখন পর্যন্ত পাউন্ডের মৌলিক প্রেক্ষাপটে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এই সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ কতটা 'ডোভিশ বা নমনীয়' অবস্থান নেবে, তা দুটো আসন্ন বৈঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবে। আমরা পাঠককে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজার এবং বেকারত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যেগুলোর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই ফেড জানুয়ারি ও মার্চ মাসে সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও বর্তমানে মার্কেটের বেশিরভাগ ট্রেডার জানুয়ারিতে আরেকবার সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছে না, তবে সুদের হার ট্রেডাররা নির্ধারণ করে না—বরং অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফলের ভিত্তিতে ফেড তা নির্ধারণ করে।

গত পাঁচ দিনের ট্রেডিংয়ে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের গড় ভোলাটিলিটি ছিল 78 পয়েন্ট, যা পাউন্ড/ডলার পেয়ারের জন্য "গড়" মান হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, আমরা এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্ট 1.3443 থেকে 1.3599 এর রেঞ্জের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি। হায়ার লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেল এখন ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে, যা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে CCI ইন্ডিকেটর ছয়বার ওভারসোল্ড জোনে প্রবেশ করেছে এবং একাধিক বুলিশ ডাইভারজেন্স গঠিত করেছে—যা ট্রেডারদের বারবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
নিকটতম সাপোর্ট লেভেল:
S1 – 1.3489S2 – 1.3428 S3 – 1.3367
নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল:
R1 – 1.3550
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের 2025 সালে পরিলক্ষিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, এবং দীর্ঘমেয়াদে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা অপরিবর্তিত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালা মার্কিন অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে যাবে, এজন্য আমরা মার্কিন ডলারের কোনো উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির আশা করছি না। তাই, যখন এই পেয়ারের মূল্য মুভিং এভারেজের উপরে থাকবে, তখন মূল্যের 1.3550 এবং 1.3599-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে লং পজিশন ওপেন করা এখনও কার্যকর ট্রেডিং কৌশল হতে পারে। অপরদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য মুভিং এভারেজের নিচে চলে যায়, তাহলে মূল্যের 1.3367-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে, বিশেষত টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে। এদিকে মাঝে মাঝে মার্কিন ডলারের মূল্যের বড় মাত্রায় কারেকশন দেখা যেতে পারে, তবে প্রবণতাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি শক্তিশালী মূল্য বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান বা অন্যকোনো উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক মৌলিক ইঙ্গিত প্রয়োজন।
চিত্রের ব্যাখা