যেখানে অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফলের প্রভাবে মার্কিন ডলার চাপের মধ্যে রয়েছে, সেখানে মিনিয়াপলিস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নীল কাশকারি গতকাল মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে সুদের হার সম্ভবত নিরপেক্ষ স্তরের কাছাকাছি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণভাবে আগত অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে।
সোমবার CNBC–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাশকারি বলেন, "সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা ধারাবাহিকভাবে মনে করেছিলাম যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে সার্বিক পরিস্থিতি আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সহনশীল রয়েছে।" চলতি বছরে তিনি আবারও ফেডারেল রিজার্ভের ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তার এই বক্তব্য ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির গতিপথ নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মাঝে মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মূলত কাশকারির মন্তব্য ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতিমালার নমনীয়করণ সংক্রান্ত পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তার উদ্রেক ঘটিয়েছে। যদি সত্যিই সুদের হার বর্তমানে নিরপেক্ষ স্তরের কাছাকাছি থাকে, তাহলে অতিরিক্ত কোনো পরিবর্তন মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মার্কেটের ট্রেডাররা বিষয়টিকে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করে ফেডের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে।
কাশকারি আরও বলেন, "এটি আমাকে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বর্তমান মুদ্রানীতি অর্থনীতির ওপর নিচের দিক থেকে খুব একটা চাপ প্রয়োগ করছে না। আমি মনে করি সুদের হার এখন নিরপেক্ষ স্তরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছি।"
বর্তমানে প্রায় সকল বিশ্লেষকের ধারণা হচ্ছে, ফেডারেল রিজার্ভ এই মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে—২০২৫ সালের শেষভাগে টানা তিনবার সুদের হার হ্রাসের পরে এটি একটি বিরতির ইঙ্গিত। ফেডের বেশিরভাগ কর্মকর্তার ধারণা, মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেলে ভবিষ্যতে সুদের হার কমানো হতে পারে, তবে কখন এবং কতটা কমানো হবে—এই বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ফেডের বৈঠকের পর প্রকাশিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৬%–এ পৌঁছেছে—যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম বৃদ্ধি পেয়েছে—যা এখন সুদের হার হ্রাসের পক্ষে আরও যৌক্তিকতা তৈরি করছে। তবে একই সঙ্গে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ছিল, যা মূল্যস্ফীতির পুনরাগমনের আশঙ্কাকে আবার সামনে এনেছে।
কাশকারি বলেন, "আমাদের আরও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যেন বুঝতে পারি কোন দিকটা শক্তিশালী রয়েছে—মূল্যস্ফীতি না শ্রমবাজার—যার ভিত্তিতে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারি।" তিনি আরও যুক্ত করেন, "মূল্যস্ফীতির বড় ঝুঁকি হলো এর দীর্ঘস্থায়ীতা—শুল্কের প্রভাব হয়তো কয়েক বছর পর সিস্টেমে প্রকটভাবে দেখা যাবে, তবে আমি মনে করি যে বেকারত্ব হঠাৎ করে বৃদ্ধির ঝুঁকি ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।"
EUR/USD পেয়ারের টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট
এই পেয়ারের ক্রেতাদের এখন মূল্যকে 1.1750 লেভেলের দিকে নিয়ে যাওয়ার উচিত। এই লেভেলে যাওয়ার পরই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1780–এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে। এরপরের লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1810, যদিও মার্কেটের বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া সেখানে পৌঁছানো মূল্যের পক্ষে কঠিন হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1840 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।
যদি এই ইন্সট্রুমেন্টটির মূল্য 1.1715 রেঞ্জে নেমে আসে, তাহলে মার্কেটের বড় ক্রেতারা পক্ষ সক্রিয় হতে পারে। যদি এই পেয়ারের মূল্য সেই লেভেলে থাকা অবস্থায় ক্রেতারা বেশি সক্রিয় না হয়, তাহলে পুনরায় 1.1685 পর্যন্ত দরপতনের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত হবে অথবা 1.1660 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।
GBP/USD পেয়ারের টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট
পাউন্ডের ক্রেতাদের জন্য তাত্ক্ষণিক লক্ষ্য হবে এই পেয়ারের মূল্যের নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল 1.3560 ব্রেক করানো। এই লেভেল অতিক্রমের পরই 1.3590–এর দিকে যাওয়ার সুযোগ আসবে, যদিও এ লেভেলের উপরে গিয়ে আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3625 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।
এই পেয়ারের মূল্য হ্রাস পেলে মূল্য 1.3530 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয় এবং এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হয়, তাহলে সেটি ক্রেতাদের জন্য ধাক্কা হতে পারে, এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য কমে 1.3500 এবং পরবর্তীতে 1.3470–তে পৌঁছাতে পারে।