বৃহস্পতিবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে মার্কিন উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) প্রকাশিত হবে, যা ট্রেডারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হলেও গতকালই মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই সূচকটির গুরুত্ব কমে গেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদকরা কতটা দ্রুত দাম বাড়াচ্ছে, তা পিপিআই থেকে বোঝা যাবে এবং অবশ্যই, এই সূচকের ফলাফল পরবর্তীতে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিতে প্রতিফলিত হবে। তবে, আমরা ইতোমধ্যেই জানি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির হার ক্রমাগত বাড়ছে, অথচ ফেডারেল রিজার্ভ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাই, এই প্রতিবেদনটি আজ মার্কেতে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে মনে হয় না। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মানিতেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না।

বৃহস্পতিবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) বৈঠক এবং ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মূলত আগে থেকেই এই বিষয়টি একরকম নিশ্চিত যে ইসিবি মূল সুদের হার ০.২৫% বাড়াবে। এই সিদ্ধান্তটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জানা ছিল। তাই, ট্রেডাররা এই ইভেন্টটিকে উপেক্ষা করতে পারে, ঠিক যেমন ট্রেডাররা অন্যান্য অনেক মৌলিক এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন উপেক্ষা করছে। তাই, আমরা মনে করি যে ইসিবির বৈঠক এবং "কঠোর" অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত ইউরোর এক্সচেঞ্জ রেটকে প্রভাবিত করবে না; যেকোনো প্রতিক্রিয়া কেবল আনুষ্ঠানিক হতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও হতাশাজনক রয়ে গেছে, কারণ আলোচনায় ব্যর্থতার মধ্যে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের কাছাকাছি চলে এসেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, উভয় পক্ষই নিয়মিতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে চলেছে এবং ইরান শান্তি স্থাপনের ব্যাপারে ট্রাম্পের যেকোনো বাগাড়ম্বরকে ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করছে। নতুন সপ্তাহ শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে পারস্পরিক গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, হরমুজ প্রণালীর উপর ইরান একটি আমেরিকান হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে, ইরানের উপকূলীয় অবকাঠামোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চালিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে, তা নিজেই বিচার করুন...
চলতি সপ্তাহের শেষ দিকের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই বেশ সক্রিয় ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ আজ ইসিবির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে, ট্রেডাররা এই ইভেন্টের প্রতি প্রত্যাশিতভাবে সাড়া দেবে কিনা, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। আজ ইউরো 1.1527-1.1531 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যাবে। কারেন্সি মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই মূল প্রভাব বিস্তার করছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।