যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1603-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। ফলে এই পেয়ারের মূল্য 15 পিপস বৃদ্ধি পায় এবং এরপরই এই মুভমেন্ট শেষ হয়ে যায়।
মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফল ট্রেডাররা সামনে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার পরিবর্তে উল্টো এক ধাঁধা বা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। মাসিক ভিত্তিতে দেশটির হেডলাইন সিপিআই বেড়ে 0.4%-এ পৌঁছেছে, তবে বার্ষিক হার 3.4%-এই অপরিবর্তিত রয়েছে এবং 'কোর ইনফ্লেশন' বা মূল মুদ্রাস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে কমে 2.4%-এ নেমে এসেছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে এই ফলাফল ফেড কর্তৃক নমনীয় বা ডোভিশ অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে; কিন্তু মাসিক ভিত্তিতে মূল মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে 0.3% হয়েছে—যা বার্ষিক হিসেবে প্রায় 3.7%-এর সমান—এবং ফেডের কঠোর বা হকিশ অবস্থানধারী সদস্যরা এই বিষয়টির ওপরই জোর দেবেন। মূলত, এই প্রতিবেদনটির ফলাফল ফেডারেল রিজার্ভের উভয় পক্ষের প্রত্যাশা অনুযায়ীই ছিল। ইউরোর ক্ষেত্রে আমি এই ফলাফলটিকে কিছুটা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। বার্ষিক ভিত্তিতে মূল মুদ্রাস্ফীতি কমে আসায় চাপ কিছুটা লাঘব হয়েছে; এছাড়া কারেন্সি মার্কেটে জাপানি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটায় হঠাৎ করে এটি ঘুরে দাঁড়াবে এমন কোনো স্পষ্ট কারণ নেই, তাই এখনও EUR/USD-এর মূল্য স্থিতিশীল থাকার সুযোগ রয়েছে।
তবে, ইউরোজোনে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা না থাকায় ইউরো আবারও কোনো জোরালো সমর্থন পাচ্ছে না; বরং আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের আগে ট্রেডাররা এখন মার্কিন ডলারের দিকে মনোযোগী হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফলের কারণে মার্কিন ডলার বর্তমানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আগস্ট মাসের মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদন কিছুটা অস্পষ্ট হলেও এটি নিশ্চিত করেছে যে, মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো কাটেনি। আমার মতে, ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ট্রেডাররা ফেড কর্তৃক কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে এবং মার্কিন ডলার সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোর কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে এসেছে। নিজস্ব কোনো ইতিবাচক চালিকাশক্তি না থাকা এবং মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায়, দিনের প্রথমার্ধজুড়ে সম্ভবত EUR/USD-এর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। আমার বিশ্বাস, ফেডের বৈঠকের আগে ট্রেডাররা সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে এবং ইউরোর মূল্যবৃদ্ধির যেকোনো প্রচেষ্টা বেশ দুর্বল বা ভঙ্গুর বলে মনে হবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1611-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1579-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1611-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ কারেকশনের অংশ হিসেবে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1562-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1579 এবং 1.1611-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1562-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1520-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1579-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1562 এবং 1.1520-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।
